নারীকে মুগ্ধ করতে পুরুষের সাধনা যত।
নারীকে মুগ্ধ করতে পুরুষের সাধনা যত।
নারীর মন পেতে পুরুষকে
অনেক কিছুই করতে দেখা যায়। নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে, সুগন্ধি মেখে, ভদ্র আচরণ করে নারী
মন জয় করার প্রচেষ্টা চালান অনেক। কিন্তু এই প্রচেষ্টাগুলো কী সত্যিই তাঁকে মুগ্ধ করে?
‘এভোলুশনারি সাইকোলজি’
সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, যাঁরা অন্যকে সাহায্য করতে বেশি আগ্রহী
তাঁরা নারীকে বেশি মুগ্ধ করতে পারেন। অর্থাৎ, পরার্থপরতা নারীকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ
করে।
নিজের পেশিবহুল শরীর প্রদর্শনীর
চেয়ে ডুবন্ত কোনো শিশুকে উদ্ধার করার গুণ নারীকে বেশি মুগ্ধ করতে পারে। এ ছাড়া বিলাসবহুল
পার্টির চেয়ে অভাবীদের সাহায্য করা কিংবা কারও প্রতি দয়া দেখানোর বিষয়টি নারীর কাছে
বেশি গুরুত্ব পায়।
সাধারণভাবে সুদর্শন হলে
তা অনেক ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে বা স্থায়ী সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে
নারীর পছন্দ হলো ভদ্রতা বা সৌজন্য। এ ছাড়া পুরুষের নিজের প্রতি আচরণ ও অন্যদের প্রতি
তাঁর আচরণের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন নারীরা। বিশেষ করে অভাবী মানুষের ক্ষেত্রে
পুরুষের আচরণ নারীরা খুব ভালোভাবে খেয়াল করেন।
নারীকে মুগ্ধ করার কয়েকটি
পরামর্শ
১. ছেলেমানুষি বাদ দিয়ে
প্রাপ্তবয়স্কের মতো আচরণ করুন।
২. সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা
পুরুষকে নারী একদম পছন্দ করে না। নারী নিরাপদ বোধ করতে চায়।
৩. যেকোনো বিষয়ে আপনার
পরিকল্পনা থাকতে হবে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আপনার পরিকল্পনা জানাতে পারেন।
৪. মতামত নেই বললে চলবে
না। নিজের মতামত জানিয়ে তাঁর মতামত শুনুন। বিশেষ করে অন্য মানুষের উপস্থিতিতে তাঁকে
মতামত জানানোর সুযোগ করে দিন।
৫. সৎ ও স্বচ্ছ থাকুন।
তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চান কিনা তা স্পষ্ট করে বলুন। যদি আপনি নিশ্চিত না হন, তবে
তাঁকে একা থাকতে দিন।
৬. তাঁকে সমর্থন করুন।
নিজের ক্যারিয়ারের মতোই তাঁর ক্যারিয়ার নিয়ে গর্ব করুন।
৭. ফুল দিন। শুধু জন্মদিন,
বিবাহবার্ষিকী বা কোনো উপলক্ষ বলে নয়, যেকোনো সময় তাঁকে ফুল উপহার দিন। তাঁকে চিঠি
লিখতে পারেন, বার্তা পাঠাতে পারেন।
৮. চোখে চোখ রাখুন। এটা
সত্যি সত্যি কাজ করে।
৯. বাইরে খাওয়ার জন্য
ডাকুন। তাঁর কোনো পছন্দের জায়গা আছে কিনা তা জিজ্ঞাসা করতে পারেন। তাঁর পছন্দের মতো
জায়গা এবং যথাসময়ে উপস্থিত থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।
১০. তাঁর কথা শুনুন মনোযোগ
দিয়ে। তাঁর দিন কেমন কাটল সেটা যথেষ্ট মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। তাঁকে কোনো কিছু করতে
বলার আগে তাঁর কোন কাজে কোনো সাহায্য লাগবে কিনা শুনে নিতে পারেন।
১১. বিশ্বাস করুন আপনার
সঙ্গীকে। কখনো স্বেচ্ছায় না জানানো কোনো বন্ধু বা কাউকে নিয়ে ঈর্ষা করবেন না।
১২. সময় প্রয়োজন হলে চেয়ে
নিতে ভুলবেন না। নিজে ভুল করলে মাফ চেয়ে নিতে হবে।
১৩. ভুল বোঝাবুঝি থাকলে
পরিষ্কার করে নিন। যোগাযোগ কার্যকর করুন।
১৪. কথা বলুন জেনে বুঝে।
‘আই লাভ ইউ’, ‘আই অ্যাম সরি’ কিংবা ‘আই উইল কল ইউ’ যখন সত্যিকার অর্থে মনে করবেন, তখনই
কেবল বলবেন।
১৫. যদি তাঁকে ভালোবাসেন,
তবে তাঁর জন্য যুদ্ধ করুন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন