ভালোবাসা মুখে না জানালেও যে ১০টি সংকেত দেয় ছেলেরা!
ভালোবাসা মুখে না জানালেও যে ১০টি সংকেত দেয় ছেলেরা!
ভালোবাসা একটি স্বর্গীয়
দান। এ ভালোবাসা প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে হতে পারে, বাবা-মায়ের মধ্যে হতে পারে, হতে
পারে ভাই-বোনদের মধ্যে, এমনকী বন্ধু-বান্ধব যে কারো প্রতি মনের এই গহীন টান অনুভূত
হতে পারে। ভালোবাসা প্রকাশভঙ্গি একেক জনের একেক রকম। অনেকে সরাসরি ভালোবাসার কথা বলতেই
বেশি পচ্ছন্দ করেন। কেউ আবার মনের মানুষকে বলতেই চান না ভালোবাসার কথা। ভালোবাসার মানুষটি
বুঝে নেবে এটিই তাদের প্রত্যাশা। তবে কোনো না কোনো ভাবে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখাতে
কিন্তু সবাই ভালোবাসে।
মুখে ভালোবাসি না বলে
মনেতে প্রেম নিয়ে চলে আজ অনেকেই। তারা বলে, ”ভালোবাসাই নাকি পৃথিবীকে গোলাকার বানিয়েছে,
যার শুরু আছে শেষ নেই।” আর তাইতো ভালোবাসি বলার জন্য দিনক্ষণ ঠিক করে ঘটা করে বলার
প্রয়োজন নেই, বরং প্রতিটি সকাল যদি শুরু হয় একটা হাসি দিয়ে সেটাই কিন্তু নিমিষেই
প্রকাশ করবে আপনার নিঃশর্ত ভালোবাসা।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অনেকেই
ধরে নিয়ে থাকেন তিনি মুখে বলছেন না, এর অর্থ তিনি আসলেই ভালোবাসেন না। কিন্তু তিনি
অন্যান্য কাজে তার ভালোবাসা প্রকাশ করে যাচ্ছেন তা অনেকের নজরেই পড়ে না। কিন্তু সত্যি
বলতে, কথা নয় তার কাজই বলে দেবে তিনি সত্যিই আপনাকে ভালোবাসেন কিনা। দেখুন তো এই কাজ
গুলো তিনি করছেন কিনা ? যদি করে থাকেন তাহলে বুঝে নেবেন তিনি মুখে না বলে তার এই সকল
কাজে আপনার প্রতি প্রকাশ করছেন নিজের ভালোবাসা।
১) তিনি আপনাকে নিজের পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সামনে নিয়ে যাচ্ছেন:
যখন একজন পুরুষের কাছে কোনো নারী অনেক
বেশি গুরুত্বপূর্ণ হন তখন তিনি অবশ্যই তাকে নিজের কর্মক্ষেত্র বা জীবনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মানুষের
সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে থাকেন। এটি তার ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম প্রধান একটি উপায়।
২) তিনি আপনার পাশাপাশি থাকতে চান:
শুধুমাত্র মুখে বলা নয় বা ফোনে ম্যাসেজ করা নয়, সত্যিকার ভাবেই যদি আপনি
তাকে পাশে পান, তিনি আপনার সাথে থাকতে, সময় কাটাতে পছন্দ করেন, তিনি আপনার ছোট্ট ছোট্ট
ছোঁয়াও অনুভব করেন তাহলে বুঝে নেবেন তার ভালোবাসা প্রকাশের ধরণ এমনই। তিনি মুখে না
বলে তার কাজে প্রকাশ করছেন।
৩) তিনি সত্যিই আপনার কথা শোনেন:
আপনার প্রতিটি কথা তিনি মনোযোগ দিয়ে শোনেন। হতে পারে তার সাথে মতামতে ভিন্নতা
আসছে, কিন্তু তিনি আপনার কথা তো শুনছেন। এই জিনিসটিও সম্পর্কের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ
এবং তিনি আপনাকে কতোটা গুরুত্ব দিচ্ছেন তা তার এই কাজের মাধ্যমেই প্রকাশ পেয়ে যায়।
৪) তিনি আপনার আন্তরিকতা উপভোগ করেন:
আপনার প্রতিটি ছোঁয়া তার কাছে অনেক বেশি মূল্যবান। তিনি হয়তো মুখে বলেন
না, কিন্তু তিনি আপনার আন্তরিক ছোঁয়ার বিপরীতে যে মধুর হাসি দিচ্ছেন তাতেই আপনার প্রতি
তার ভালোবাসা প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে।
৫) শুধুমাত্র আপনার কথা ভেবে অনেক কিছু করেন:
আপনার মুখে একটু হাসি ফুটে উঠবে সেই কথা ভেবে আপনার পছন্দের অনেক
কাজই তিনি করে ফেলেন। আপনার কিন্তু বুঝে নিতে হবে এটিই তার ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
৬) তিনি শুধুমাত্র আপনার সান্নিধ্য নিয়েই চিন্তা করেন:
আপনি শপিংয়ে তাকে নিয়ে যাচ্ছেন এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকে
শপিং মলে ঘোরাচ্ছেন। তিনি কিছুই বলছেন না, এতে প্রমান হয় যতোটা সময় আপনি তার পাশে আছেন
তিনি অন্য কিছুর দিকে নজরই দিচ্ছেন না। আপনার সান্নিধ্যই তার কাছে মুখ্য। ভেবে দেখুন,
এটি কি তার ভালোবাসা প্রকাশ নয়?
৭) তিনি অনেক চিন্তাভাবনা করে আপনাকে উপহার দেন:
চোখের সামনে যা পড়ল তা কিনে উপহার দেয়া কিংবা আপনার কি পছন্দ
তা জেনে নিয়ে উপহার দেয়ার এবং নিজে ভেবে চিন্তে উপহার দেয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে।
তিনি হয়তো তার মিটিং বা অন্য কাজ ফেলে অথবা কাজের ফাঁকেই চিন্তা করেছেন আপনাকে নিয়ে
এবং খুব ভেবে বের করেছেন কোন উপহারটি আপনার জন্য উপযুক্ত। এই বিষয়টিও কিন্তু প্রমান
করে তিনি আপনাকে তার জীবনে কতোটা গুরুত্ব দেন।
৮) তিনি কম্প্রোমাইজ করেন:
যে পুরুষটি সম্পর্কের ব্যাপারে একেবারেই সিরিয়াস নন তিনি কিন্তু কম্প্রোমাইজ করে চলার
কথা ভাবতেও যাবেন না। তিনি বরং ভাববেন ‘সম্পর্ক থেকে তিনি কি পেলেন’। কিন্তু যদি আপনার
সুবিধা, অসুবিধার কথা ভেবে, আপনার জন্য তিনি কম্প্রোমাইজ করে চলেন তাহলে কি মুখে বলে
বোঝানো লাগবে তিনি আপনাকে ভালোবাসেন? মোটেও নয়।
৯) তিনি আপনার কাছে পরামর্শ চেয়ে থাকেন:
যে কোনো কিছুর জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়ে যদি তিনি আপনার কাছে পরামর্শ
চেয়ে থাকেন তাহলেই প্রমানিত হয় তিনি আপনাকে কোন চোখে দেখেন। তিনি আপনার পরামর্শকে মূল্যায়ন
করেন এবং আপনাকে মূল্যায়ন করেন বলেই তিনি পরামর্শ চান। ভালোবাসা প্রকাশের এর চাইতে
ভালো কোনো উপায় আর আছে কি?
১০) তিনি আপনার নিরাপত্তা
নিশ্চিত করেন: পুরুষেরা স্বভাবতই একটু প্রতিরক্ষা মূলক মনোভাবের হয়ে থাকেন। যে পুরুষটি
আপনাকে ভালোবাসেন আপনাকে কেয়ার করেন তিনি আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। আপনি তার
সাথে থাকলে অনেক বেশি নিরাপদ অনুভব করবেন। আপনি যদি সমস্যায় পড়েন তাহলে তিনি কখনো প্রশ্ন
করবেন না কিন্তু আপনি ঠিকই তাকে পাশে পাবেন। ভালোবাসা প্রকাশ কিন্তু এভাবেও হয়ে যায়।
অনেকেই থাকেন ব্যস্ততার
মাঝে সম্পর্কের মানেই ভুলে যান তাঁদের বলছি, ব্যস্ত জীবন থেকে পচ্ছন্দের মানুষের জন্যে
একটু সময় বরাদ্দ করুন। আপনি হয়তো কাজ নিয়ে অনেক ব্যস্ত। অনেক মিটিং, কাজের ঝামেলা থাকতো
পারে। কিন্তু এর মধ্যেও ফোন করে প্রিয়জনের খোঁজ নিতে পারেন। তাদের ভালো- মন্দ অবস্থা
জানতে পারেন।
এ ছাড়াও মাঝে মাঝে আপনি
তাদের কে নিয়ে বাইরে কফি হাউজে বা ক্যাফেতে যেতে পারেন। সময় দিলে আপনাদের ঘনিষ্ঠতা
বাড়তে পারবে একথা নিশ্চিত। নিরবে ভালোবাসা প্রকাশের আরও এক সহজ উপায় হচ্ছে প্রিয়জনের
কথা শুনুন।
হোক সেটা অপ্রয়োজনীয়,
বিরক্তকর এমনি সে কথাটি আপনি যদি আগেও কয়েকবার শুনে থাকেন তাহলেও শুনবেন। কারণ আপনি
যে তার প্রতি নমনীয় তা নিঃশব্দে বোঝানোর অন্যতম উপায় এটি। মানুষ মাত্রই ভুল।
পছন্দের মানুষটি যদি ভুল
করে তাহলে তাকে ছেড়ে না দিয়ে সমর্থন করুন।এই সময়ে প্রিয় মানুষটির আন্তরিকতা একান্তই
কাম্য। দুর্দিনে তাকে ছেড়ে যাবেন না। বরং বোঝানোর চেষ্টা করুন, যা হবার হয়েছে, আমি
সঙ্গে আছি।
পছন্দের মানুষটি থেকে
দূরে থাকলে তাকে কেয়ার প্যাকেজ পাঠিয়ে তার খোঁজ খবর নিতে পারেন। এতে একসঙ্গে দুটি
উদ্দেশ্য হাসিল হবে। খোজঁ নেয়াও হবে আবার তাকে চমকে দেয়াও হবে। প্রয়োজনীয় জিনিস বা
উপহার প্যাকেট করে পাঠাতে পারেন। এতে দূরে থাকলেও প্রিয়জনের প্রতি আপনি যত্নবান এটি
প্রকাশ পাবে।
প্রিয়জনের এবং আপনার জীবনকে
সহজ করে তুলুন। জীবন কে সহজ করা মানে অর্থ-বৈভবে ভরিয়ে তোলা নয়। বরং তাদের জীবনের
সমস্যা গুলোকে সমাধান করে তাদের জীবনকে সুখময় করা। সর্বপরি বলব মানুষ যতটা সুখী হতে
চায় ততটাই পারে কারণ সুখের কোন পরিসীমা নেই । মানুষ ইচ্ছে করলেই সুখকে আকাশ অভিসারী
করে তুলতে পারে । এটা আপনার ওপর আপনি কতটা সুখী হতে চান ?
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন